হোমনায় বাড়ছে শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা , অক্সিজেনের তীব্র সংকটের আশঙ্কা

হোমনায় বাড়ছে শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা , অক্সিজেনের তীব্র সংকটের আশঙ্কা

আব্দুল হক সরকার
সারাদেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনিই বাড়ছে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংথ্যা। কুমিল্লার হোমনায়ও বেড়েছে সংক্রমণ । এতে সরকারি হাসপাতালে বেড়ে গেছে রোগীর চাপ। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ । করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় অক্সিজেনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এতে সামনের দিনগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিকল্প প্রস্তুতি না নিলে অক্সিজেন সংকট তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে,মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে প্রায় চার গুণ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর সেন্ট্রাল অক্সিজেন না থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে সীমিত আকারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “হাড়িঁর খোঁজে বাড়ির”অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে হাড়িঁর খোঁজে বাড়ি অনুদানের ২০ টি সিলিন্ডার দিয়ে রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে কাড়াকাড়ি চলেছে।

সরেজমিনে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করোনা পজেটিভ রোগীর স্বজন মো. মোবারক হোসেন জানান আমার স্ত্রীর করোনা পজেটিভ অক্সিজেনের মাত্র ৯০ এর নীচে। সার্বক্ষনিক অক্সিজেনের দরকার কিন্ত হাসপাতাল থেকে তা পাচ্ছে না। তাই হাসপাতালের অক্সিজেনের পাশা পাশি হাড়িঁর খোজেঁ বাড়ি সংগঠনের সিলিন্ডার অক্সিজেন ব্যবহার করা হচ্ছে। রোগীর অবস্থা উন্নতির দিকে।

মানবিক সংগঠন ” হাঁড়ির খোজেঁ বাড়ি”র পরিচালক আবদুস সালাম ভুইয়া বলেন, করোনা কালীন সময় খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি শ্বাস কষ্ট রোগীর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন ১০থেকে ১২ জন রোগীকে অক্সিজেন দিতে হয়। দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেখা গেছে অনেক রোগীর শ্বাস কষ্ট থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ হাসপাতালে গেলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হবে টাকা পয়সার অভাবে ঢাকা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িতে অক্সিজেন ব্যবহার করে ডাক্তার পরামর্শে চিকিৎসা নিলে সুস্থ্য হবেন। অনেকে হয়েছেও তাই।
এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবান ব্যক্তি খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি অক্সিজেন সহায়তা দিয়ে রোগীদের পাশে দাড়ানোর আহবান জানাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুছ ছালাম সিকদার জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৫ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ আছে। সব রোগীকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে না। অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে সেই রোগীকে অক্সিজেন দিতে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্ত শ্বাস কষ্ট রোগীর সব সময় প্রচুর অক্সিজেনের প্রয়োজন যা এই মূহুর্তে হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা সম্ভব না। তাই রোগীর স্বজনরা বাহির থেকে বিকল্প অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থা করছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে জানান, জাইকার প্রকল্পের অধিনে সেন্ট্রাল অক্সিজেন স্থাপন প্রক্রিয়াধীন। উপজেলা পপরিষদ থেকে ২লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে আরো অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা যায় কিনা চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *