Darpannews24

কুমিল্লার শীর্ষ ৫ মাদক ব্যবসায়ীর রাজত্বের অবসান

কুমিল্লার শীর্ষ ৫ মাদক ব্যবসায়ীর রাজত্বের অবসান

কুমিল্লায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে গত তিনদিনে ৫ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর রাজত্বের অবসান ঘটেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সহ একাধিক মামলা ছিল। নিম্নে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হলো। তবে উক্ত অভিযান সাধুবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লাবাসী। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সাধারণ জনগন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।


সোমবারের অভিযান: নিহত ২
কুমিল্লায় ডিবি ও থানা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শরীফ ও পিয়ার নামে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে জেলা সদরের অদূরে বিবির বাজার অরণ্যপুর (বাজগড্ডা) এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, একটি পাজারো জিপ, ৫০ কেজি গাঁজা এবং ৫০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানকালে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুপ কুমারসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান আসছে গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমনের নেতৃত্বে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া, ডিবির ওসি নাছির উদ্দিন মৃধা, কোতয়ালীর ওসি (তদন্ত) মো: সালাহ উদ্দিনসহ ও ডিবি পুলিশের একাধিক পৃথক টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
অভিযানে অংশ নেয়া কুমিল্লা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম মুঠো ফোনে জানান, ঘটনাস্থলে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শরীফ (২৬), পিয়ার আলী (২৮) ও সেলিম গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মাদক ব্যবসায়ী শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মধ্যে মধ্যে মো: শরীফ জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের পুত্র। তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। অপর নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার পুত্র। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মাদকের মামলা রয়েছে। এদিকে ওই অভিযান চলাকালে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুপ কুমার, এসআই শাহ আলম,কনস্টেবল তানভীর এবং ডিবির এএসআই শাহীনুর আলম আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মঙ্গলবারের অভিযান: নিহত ১
কুমিল্লায় গ্রেপ্তারের পর ডিবি ও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যবসায়ীর নাম ইসহাক ওরফে ইছা। পুলিশের দাবি, নিহত তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। নিহত ইসহাক একই উপজেলার গাজীপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১১টি মামলা রয়েছে। এ সময় ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার চাঁনপুর ব্রিজসংলগ্ন সামারচর এলাকায় গোমতী বাঁধের কাছে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে মঙ্গলবার বিকালে ইসহাককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার সামারচর এলাকা থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার শেষে ফেরার পথে ইছার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
তিনি আরো বলেন, এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ইছার সহযোগীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহউদ্দিন, এসআই মারুফ ও কনস্টেবল মিজানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বুধবারের অভিযান: নিহত ২
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল প্রকাশে লম্বা বাবুল (৩৫) এবং সদর দক্ষিনে রাজিব (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন আমানগন্ডা সলাকান্দা নতুন রাস্তার মাথায় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাাম পুুরাতন ট্যাংক রোডের গোয়ালমথন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবুল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বৈদ্দেরখিল গ্রামের হাফেজ আহাম্মদের পুত্র এবং রাজিব সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি সংলগ্ন চাঙ্গিনী গ্রামের মৃত শাহ আলমের পুত্র। উভয়ই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ দাবি করেছে। উভয় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও মাদক।
চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকার রামরায় এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বাবুুলকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার একটি মাদকের চালান উপজেলার আমানগন্ডা এলাকায় রয়েছে।
থানা০ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল ফয়সাল রাত আড়াইটার দিকে মুঠো ফোনে জানান, মাদক ব্যবসায়ী বাবুলকে নিয়ে আমানগন্ডার নতুন রাস্তার মাথার মন্তাজের বাগানে রাত ১টার দিকে অভিযানকালে বাবুলের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা ২৩ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গুলিবিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ছাড়াও থানার এসআই মোজাহের, কনস্টেবল মিজান ও ফরিদ আহত হয়। আহত বাবুলকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি এবং ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, নিহত বাবুরেলর বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৫টি মামলা রয়েছে।
অপর দিকে রাত সোয়া ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম মুঠো ফোনে জানান, মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন ট্যাংক রোডের গোয়ালমথন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা একটি প্রাইভেটকারে মাদকদ্রব্য নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি (ওসি) আরও জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী রাজিব (২৫) ও তার সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষায় পুলিশও ১৭টি রাউন্ড গুলি চালায়। এতে গুলিবিব্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মাদক ব্যবসায়ী রাজিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.